দেশের ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৫ সুপারিশ
দেশের ব্যাংক খাতে বিদ্যমান সংকট মোকাবেলা এবং প্রস্তাবিত নতুন আইন ও সংস্কার বিষয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) প্রতিনিধিরা।
রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাযালয়ে গতকাল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ১৫ দফা সুপারিশ সংবলিত একটি স্মারকলিপি গভর্নরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপিতে বিএবি জানায়, উচ্চ খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, মূলধনের অপর্যাপ্ততা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে ব্যাংক খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে এ খাতকে স্থিতিশীল রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সরকার ও ব্যাংকগুলোর মধ্যে নীতিগত সমন্বয় থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।
পাশাপাশি বন্ধ বা রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঋণসহায়তা পেতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারকে জামিনদার হওয়ার ব্যাপারেও পরামর্শ দেয় বিএবি। সংগঠনটির মতে, ব্যাংকগুলোর জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি খেলাপি ঋণ। এ অবস্থায় ঋণের পরিধি বাড়িয়ে আর্থিক সংকটে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চালু করা সার্বিক অর্থনীতির জন্য ভালো হলেও এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত গ্যারান্টি থাকলে ব্যাংকগুলো ঋণ বর্ধিতকরণের ক্ষেত্রে মূল ঝুঁকি এড়াতে পারবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের ব্যাপারে বিএবির প্রতিনিধিরা বলেন, বিগত দিনে ব্যাংক খাতে সংগঠিত নৈরাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছিল। ফলে এ খাতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামো, পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহিতা, উদ্যোক্তা শেয়ার কাঠামো এবং মূলধন সংগ্রহের সক্ষমতার মতো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এ শৃঙ্খল যেন ব্যাহত না হয় এ ব্যাপারে সজাগ থাকার অনুরোধও জানান তারা।
এছাড়া স্মারকলিপিতে দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় পৃথক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন, পুনঃতফসিলীকৃত ঋণে নিয়ন্ত্রক ছাড়, মূলধন সংরক্ষণে কর সুবিধা এবং এসএমই ও কৃষি খাতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
বৈঠক শেষে বিএবির সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, ‘দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক সংস্কার ও নীতিগত সহযোগিতা প্রয়োজন। আজকের বৈঠকে এসব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
অন্যদিকে সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির বলেন, ‘আমরা চাই ব্যাংক খাতে সুশাসন ও সংস্কারের যে ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে, একটি সুযোগ্য নেতৃত্বে তা আরো গতিশীল হবে।’
বৈঠকে বিএবি প্রতিনিধিরা আরো জানান, সংকটের মধ্যেও অনেক ব্যাংক দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মীদের আন্তরিক পরিশ্রমের ফলেই এমনটি সম্ভব হয়েছে।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এ কে আজাদ, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান এবং ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা।


