শিরোনাম

South east bank ad

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল ১৬.৬৮%

 প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   মন্ত্রনালয়

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল ১৬.৬৮%

দেশে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। প্রতি ইউনিটে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৩৯ পয়সা। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। প্রতি ইউনিটে গড়ে দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবার লাইফলাইন গ্রাহকের (০ থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী) বিদ্যুতের দামও বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সঞ্চালন (ট্রান্সমিশন) চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন দেশে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে। এবার বিদ্যুতেরও মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষি-শিল্প খাতের উৎপাদন ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, দেশের বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত সংস্কার বিশেষ করে বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মতো বিষয় সংস্কার না করে উল্টো গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভোক্তার ওপর দায় চাপিয়ে দেয়া হলো। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ খাতে কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিলেও তাতে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক লোকসান কমাতে পারেনি। কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন না করে এ খাতের লোকসান কমাতে বিভিন্ন সময় বার বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন সরকারও সে পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিদ্যুৎ খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং জ্বালানি খাতে সংকটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে না পারায় গত দেড় দশকের বেশি সময় বিপুল পরিমাণ দায়দেনা করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। দরপত্র ছাড়া এককভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এবং গ্যাস অনুসন্ধান না করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানোয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সে আমলে দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে। আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে ট্যারিফ নেগোসিয়েশন, অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল, ক্যাপাসিটি চার্জ কমানো এবং এ খাতে দুর্নীতি, আমদানিনির্ভরতার বিষয়ে তারা কিছুই করতে পারেনি।

গত মাসে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণশুনানিতে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ভোক্তা অধিকার সংগঠন থেকে শুরু করে খাতসংশ্লিষ্টরা বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং কমানোর জন্য জোর দাবি জানান বিইআরসির প্রতি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কারের একটা উদ্যোগ শুরু করেছিল সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও কিছুই সংস্কার হয়নি। বিইআরসি যদি ঠিকমতো এ খাতের জবাবদিহিতা ও তদারকি করত, তাহলে হয়তো কাঠামোগত কিছু সংস্কার হতো। কিন্তু তারা এক্ষেত্রে এক অর্থে ব্যর্থ। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি কেবল বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর। বিশেষ করে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।’

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন গতকাল বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস, ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলো বন্ধ করার দাবি ছিল ভোক্তাদের। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর খড়্গ নামানো হলো, যা খুবই দুঃখজনক। যেখানে বিভিন্ন দেশ ক্ষুদ্র প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য বিল মওকুফের কথা বলছে, সেখানে ভর্তুকি কমানোর কথা বলে ক্ষুদ্র গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হলে স্বাভাবিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে।’

BBS cable ad

মন্ত্রনালয় এর আরও খবর: