পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার চায় ডিবিএ
দেশের পুঁজিবাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইসের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
বাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের গতি ফিরিয়ে আনতে সংগঠনটি অবিলম্বে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে ডিবিএ।
ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত লেনদেনবিহীন অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে ৩ মে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ ফ্লোর প্রাইস বলবৎ থাকা শেয়ারগুলোতে বিক্রেতাদের জন্য স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লোর প্রাইসজনিত দীর্ঘমেয়াদি লেনদেন সীমাবদ্ধতা মার্জিন ঋণ গ্রহণকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক ইকুইটির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।
ডিবিএ মনে করে, এ ধরনের কৃত্রিম মূল্যসীমা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস অবিলম্বে প্রত্যাহার করে বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় চালুর জন্য বিএসইসির কাছে আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকা দুই কোম্পানির মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর ১১০ টাকা ১০ পয়সায় এসে দাঁড়িয়েছে। শেয়ারটির ফ্লোর প্রাইসও একই। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ারদর এর নিচে নামতে পারবে না। একইভাবে ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস ৩২ টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ গতকাল ৩৩ টাকায় লেনদেন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেশের পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইস যুগের শুরু হয় ২০২০ সালের মার্চে। কভিড সংক্রমণের প্রভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন তীব্র হয়ে উঠলে তা ঠেকাতে সে বছরের ১৯ মার্চ ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এক বছরেরও বেশি সময় পর ২০২১ সালের ১৭ জুন ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা শুরু হলে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে বিএসইসি। এর পাঁচ মাসের মাথায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ১৬৯টি কোম্পানির ক্ষেত্রে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়। যদিও এ কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমতে শুরু করলে দুই মাস পরই ২০২৩ সালের ১ মার্চ আবারো ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়, যা ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল ছিল। সেদিন ৩৫টি কোম্পানির ওপর বহাল রেখে বাকি সব কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি ২৩টির ওপর থেকে প্রত্যাহার করে ১২টি কোম্পানির ওপর ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখা হয়। এরপর একই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি আরো ছয় কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের আগস্টে বিএসইসির ৯১৬তম কমিশন সভায় চার কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তখন থেকে শুধু ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকো লিমিটেডের ওপর ফ্লোর প্রাইস বহাল রয়েছে।


