সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে ডিএসইএক্স সূচক
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল দিনের শুরুতেই বিক্রয় চাপ তীব্র হতে থাকে।
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে গতকাল তীব্র বিক্রয় চাপের কারণে সব ধরনের সূচকই আগের কার্যদিবসের তুলনায় পয়েন্ট হারিয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টের নিচে নেমে যায়। এদিন ডিএসইএক্স সূচক ৫ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত ১ জুন ডিএসইএক্স সূচক ৫ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া গতকাল ডিএসইর অন্যান্য সূচকও আগের দিনের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) এদিন সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল দিনের শুরুতেই বিক্রয় চাপ তীব্র হতে থাকে। চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তা শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। লেনদেন চলাকালে প্রায় সব খাতের শেয়ারেই বিক্রয় চাপ দেখা গেছে। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রয়প্রবণতা আরো তীব্র হলে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যায়।
গতকাল ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ৪০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৪১৯ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৭২ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৮৫ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে রেনাটা, সাউথইস্ট ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, বিএসআরএম ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ৪৮৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫৭১ কোটি টাকা। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬টির, কমেছে ২৯৯টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৫ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। ব্যাংক খাত ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৯ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।


