আমদানি বন্ধের পর হিলিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা
দেশের কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) দেয়া বন্ধ রেখেছে সরকার। যদিও এ-সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন বা নোটিস জারি করেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। ৫ জানুয়ারি সকাল থেকে নতুন করে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়নি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তবে পুরনো আইপি দিয়ে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি করতে পারবেন আমদানিকারকরা। পুরনো আইপি দিয়ে সীমিত পরিমাণে পণ্যটি আমদানি করছেন আমদানিকারকরা। সরবরাহ কম থাকায় দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে মসলা-জাতীয় পণ্যটির দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে। হঠাৎ করে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা। নতুন করে আমদানির অনুমতি না দিলে দাম আরো বাড়বে বলে দাবি আমদানিকারকদের।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরনো আইপির বিপরীতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা পর্যন্ত। মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে ১৫টি ট্রাকে ৪৪৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গতকালও আমদানি অব্যাহত ছিল। বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে তিন ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
আমদানিকারক নাফিস ইকবাল বলেন, ‘তিন মাস বন্ধের পর ৭ ডিসেম্বর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এতে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ায় দামও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সরকার সোমবার থেকে আমদানির অনুমতি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও পেঁয়াজের কোনো আইপি পাচ্ছি না। আগের আইপিতে সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি বন্ধের খবরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। নতুন করে আইপি না দিলে দাম আরো বাড়তে পারে।’
হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা এম আর বাঁধন বলেন, ‘সরকার নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না বলে আমদানিকারকদের কাছ থেকে জেনেছি। যারা আগে থেকে আইপি পেয়েছেন সেসব আইপির বিপরীতে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচা পণ্য ও দ্রুত পচনশীল তাই বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। বন্দর দিয়ে ৭ ডিসেম্বর শুরু করে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতীয় ৩১৭টি ট্রাকে ৯ হাজার ৪৬৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।’


