অ্যামচেম বাংলাদেশের নেতৃত্বে সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম-বাংলাদেশ) নতুন নির্বাহী ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল ২০২৬-২৮ মেয়াদের এ কমিটির অভিষেক ও দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অ্যামচেম বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, যিনি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়া সহসভাপতি হিসেবে মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সংগঠনটি বলছে, এ নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। কমিটিতে স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের বিভিন্ন খাতে দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
নতুন সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের আর্থিক সেবা, এফএমসিজি, রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে ৩৫ বছরেরও বেশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ ও এসিআই লিমিটেডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল অ্যামচেম বাংলাদেশের সহসভাপতি এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ছিলেন।
সহসভাপতি আলা উদ্দিন আহমদের এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ২৫ বছরেরও বেশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকারকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কার্যকর নীতিগত ভূমিকার জন্য তিনি সুপরিচিত। এছাড়া আলা উদ্দিন আহমদ একজন ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও সিএএএনজেডের সদস্য। অ্যামচেম, ফিকি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) নেতৃত্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদের অর্থনীতি, কৌশল এবং জনসংযোগ বিষয়ে ২২ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ডিএইচএল এক্সপ্রেস এবং বাংলালিংকে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। রেজা উর রহমান মাহমুদ বাংলাদেশের প্রথম স্মোক-ফ্রি পণ্য উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ হিসেবেও পরিচিত। তিনি ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি এবং সিএমএ (অস্ট্রেলিয়া)।
অ্যামচেম বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাটকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-মামুন এম রাশেল; এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার হাবিব ভূঁইয়া; অ্যাভেরি ডেনিসন বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার জেনারেল ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন এবং শপআপ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহপ্রতিষ্ঠাতা আতাউর রহিম চৌধুরী।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নীতি প্রবর্তনে সহায়তা জোরদারে অ্যামচেম বাংলাদেশের ভূমিকা আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে। কমিটির অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করা, বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা, ইউএস ট্রেড শো পুনরায় চালু করা, সদস্যপদ ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, খাতভিত্তিক সাব-কমিটিগুলোকে আরো কার্যকর করা, ভবিষ্যৎমুখী নীতিগত সংস্কারকে এগিয়ে নেয়া এবং সদস্যদের জন্য আরো সহজলভ্য, প্রভাবশালী ও কার্যকর চেম্বার গড়ে তোলা।
বিদায়ী বক্তব্যে অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ তার দায়িত্বকালে চেম্বারের প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটি তার নেতৃত্ব ও অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন অ্যামচেম বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি তার আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো জোরদারে তাদের সাফল্য কামনা করেন।


