শিরোনাম

South east bank ad

অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সংস্কার কার্যকরের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের

 প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   মন্ত্রনালয়

অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সংস্কার কার্যকরের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের

রাজস্ব আহরণের দুর্বলতাকে দেশের অর্থনীতির বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

তাদের মতে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায় না হওয়ায় প্রতি বছর বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বৈদেশিক ঋণ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ সীমার নিচে থাকলেও এর ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সামষ্টিক অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের ভাষ্য, আসন্ন বাজেটে প্রস্তাবিত সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

গতকাল রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) সম্মেলন কক্ষে ‘রিস্টোরিং গ্রোথ থ্রু প্রডাক্টিভিটি রিফর্মস: প্রি-বাজেট প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন তার বক্তব্যে উন্নয়ন ব্যয়, রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাজস্ব আহরণের দুর্বলতাকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায় না হওয়ায় প্রতি বছর বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পরোক্ষ কর বা ভ্যাটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। তাই প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং কর প্রশাসনের কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।’

বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতাকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এ প্রবণতা বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরো বলেন, বৈদেশিক ঋণ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ সীমার নিচে থাকলেও এর ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সংস্কার একটি জটিল ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল প্রক্রিয়া হলেও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এটি অপরিহার্য। তবে সংস্কার যেন কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তবায়নযোগ্য কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয়।’

সভাপতির আলোচনায় ড. জাইদী সাত্তার বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রফতানি কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রফতানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ শতাংশে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির তুলনায় এটি গ্রহণযোগ্য, কারণ অনেক দেশে রফতানি দুই অংকের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে নেমে গেছে। পাশাপাশি প্রবাসী আয় শক্তিশালী রয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উন্নত হয়েছে এবং পিএমআই সূচক অনুযায়ী, ব্যবসায়িক আস্থায় কিছু স্থিতিস্থাপকতা দেখা যাচ্ছে।’

অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. জাইদী সাত্তার ​বলেন, শুধু ম্যাক্রো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যথেষ্ট নয়; টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিমুখী সংস্কার জরুরি। আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আহরণ, ব্যয় দক্ষতা, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ পরিশোধের চাপের মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপরও তিনি জোর দেন। শিল্পনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত আমদানি-প্রতিস্থাপনভিত্তিক নীতি এখন অকার্যকর; ভবিষ্যতের শিল্পনীতি হতে হবে রফতানি প্রতিযোগিতামূলক, লক্ষ্যভিত্তিক এবং পাবলিক-প্রাইভেট সহযোগিতানির্ভর।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. আশিকুর রহমান দেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং ঋণের সুদের বোঝা কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট আর্থিক সংস্কারের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর সংস্কার ছাড়াই যদি একটি বড় ও সম্প্রসারণমূলক বাজেট প্রণয়ন করা হয়, তবে তা মূল্যস্ফীতি এবং ঋণের বোঝা আরো বাড়িয়ে দেবে।’

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরুদ্দিন আহমেদ কর প্রশাসনে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘আংশিক সংস্কার কার্যকর নয়। তিনি ক্ষুদ্র সেবা খাতের জন্য প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্স ও সহজ কর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, উচ্চ সুদহার, মুদ্রার সম্ভাব্য অবমূল্যায়ন ও ঋণসংকটে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। এলডিসি উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদী তহবিল গঠন, কার্যকর নীতি সমন্বয় ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে এনবিআর অটোমেশনের দুর্বলতা ও নীতিগত বিচ্ছিন্নতার সমালোচনাও করেন।’

BBS cable ad

মন্ত্রনালয় এর আরও খবর: