শিরোনাম

South east bank ad

সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বড় সম্ভাবনা রয়েছে

 প্রকাশ: ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বড় সম্ভাবনা রয়েছে

সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদি।

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হবে, নতুন বিনিয়োগ আসবে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসি বাংলাদেশ) সচিবালয়ে গতকাল এক বৈঠকে এসব কথা বলেন ভারতের হাইকমিশনার। এ সময় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো জোরদারকরণে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে বেসরকারি খাতের আরো সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’ এর মাধ্যমে উভয় দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরো শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মাহবুবুর রহমান।

আইসিসি বাংলাদেশের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতীয় বাজারে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে। বিপরীতে ভারত থেকে ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে।

বৈঠকে মাহবুবুর রহমান দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশী পণ্যের জন্য ভারতের বাজারে আরো সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, অশুল্ক বাধা দূর করা, পণ্যের মানদণ্ডে সমন্বয়, শুল্ক ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ, আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল, বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সীমান্তবর্তী বিদ্যুৎ বাণিজ্য, ডিজিটাল বাণিজ্য, ফিনটেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু অর্থায়ন, টেকসই শিল্পায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।’

মাহবুবুর রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে সার্ককে আরো কার্যকর করা, বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিকল অ্যাগ্রিমেন্ট দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিমসটেকের আওতায় বাস্তবমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নত হবে, পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমবে এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশী পণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা, বিশেষ করে পাট ও পাটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছতে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সব ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভাবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষ মানবসম্পদের ক্ষেত্রে দুই দেশের উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। এসব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অনেক অমীমাংসিত বিষয় উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত আলোচনা ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

হাইকমিশনার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে কোনো সমস্যা হলে তারা যেন নির্দ্বিধায় ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাইকমিশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’

বৈঠকে আইসিসি বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসের এজাজ বিজয় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ব্যবসায়িক ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত করার আহ্বান জানান।

আইসিসি বাংলাদেশের এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্য সিমিন রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ভারতের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুললে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়বে।’

আইসিসি বাংলাদেশের এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্য আবদুল হাই সরকার আশা প্রকাশ করেন, নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্বকালেই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বাণিজ্য ও ব্যবসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধানের পথে এগোবে।

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: