পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেনে নিম্নমুখিতা
দেশের পুঁজিবাজারে গতকাল সূচক ও লেনদেনে নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১০ পয়েন্টেরও বেশি। দৈনিক লেনদেন কমেছে ৫ শতাংশ। ব্যাংক খাতের বেশকিছু শেয়ারের রেকর্ড ডেট-পরবর্তী মূল্য সমন্বয় গতকাল পুঁজিবাজারের সূচকে দরপতনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরুর পর প্রথম ১৫ মিনিট ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে ছিল পুঁজিবাজার। তবে এর পরই শেয়ার বিক্রির চাপে পয়েন্ট হারাতে শুরু করে সূচক। দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ১০ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৬৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ২৭৮ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ২৩ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন প্রায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এনসিসি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও গ্রামীণফোনের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ৮ হাজার ৩২ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৮৭৭ কোটি টাকা। এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৭টির, কমেছে ২২৭টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৫৯টির।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। প্রকৌশল খাত ১৩ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ১০ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল বস্ত্র খাত। পঞ্চম অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে ছয়টি বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে জীবন বীমা খাতে। এছাড়া চামড়া খাতে ১ শতাংশ, সেবা ও আবাসন খাতে দশমিক ৯ শতাংশ এবং ব্যাংক খাতে দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে সিরামিক খাতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। এছাড়া এদিন কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ওষুদ ও রসায়ন খাতে দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ১১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ৯৯টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির। সিএসইতে ১৫ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৭ কোটি টাকা

