দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন
ঈদুল আজহার ছুটির পরই দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করেছে।
এর প্রভাবে পুঁজিবাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী। গতকাল প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিন এক্সচেঞ্জটির সূচক বেড়েছে দশমিক ৭৫ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে ছিল পুঁজিবাজার। মাঝে মুনাফা তুলে নেয়ার কারণে কিছুটা দরপতন দেখা গেলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৬৮ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১০৯ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, রেনাটা ও গ্রামীণফোনের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট ডিএসইতে ২ হাজার ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৪টির, কমেছে ১৬০টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৪৯টির।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএসইসি নতুন কমিশনের অধীনে সংস্কারের প্রত্যাশা ক্রমেই জোরদার হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে আইপিও ও মার্জিন ঋণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে ব্যাপক শেয়ার ক্রয় ও ইতিবাচক গতি বজায় রাখার প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে টানা দশম কার্যদিবসের মতো ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রেখেছে প্রধান সূচক। লেনদেনের প্রথমার্ধে ধারাবাহিক ক্রয়চাপের কারণে বাজারে শক্তিশালী গতি দেখা গেলেও শেষ দিকে সাম্প্রতিক উত্থানকে কাজে লাগিয়ে কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেয়ায় দিন শেষে সূচক কিছুটা পয়েন্ট হারিয়েছে।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। ওষুধ ও রসায়ন খাত ১১ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৯ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল বস্ত্র খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে সাধারণ বীমা খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৩ এবং সিমেন্ট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গতকাল পাট খাতের শেয়ারে ২ দশমিক ২, কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১ দশমিক ৮ এবং সেবা ও আবাসন খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।


