হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত
মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর যদি ক্রয়মূল্য বা নিট সম্পদমূল্যের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমে যায়, সেক্ষেত্রে ইউনিটহোল্ডারদের সিদ্ধান্তে ফান্ডটি রূপান্তর বা অবসায়ন করার বিধান রয়েছে।
সম্প্রতি এ বিধান চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন ইউনিটহোল্ডারের পক্ষ থেকে রিট করা হলে দুই মাসের জন্য মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর রূপান্তর বা অবলুপ্তি প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদালতে আপিল করা হলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি ফারাহ মাহবুব হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেন।
হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির পক্ষ থেকে গত ১১ জুন ট্রাস্টিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছিল যে এ স্থিতাবস্থার সুবিধা শুধু রিটকারী ইউনিটহোল্ডারদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এর বাইরে অন্য সব ইউনিটহোল্ডারের ক্ষেত্রে গত ৭ মের আদেশ বহাল থাকবে এবং রূপান্তর বা অবলুপ্তির প্রক্রিয়া চলবে। তবে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ আপিল বিভাগ কর্তৃক স্থগিত করার কারণে এখন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫-এর ৬২(২) বিধি এবং এ বছরের মে মাসের ৭ তারিখে যে আদেশ জারি করা হয়েছিল সে অনুসারে ইউনিটহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর কিংবা অবসায়নের ক্ষেত্রে আইনি বাধা আর থাকছে না।’
২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি হওয়ার মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালায় বলা হয়েছে, এ বিধিমালা সরকারের গেজেটে প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে যদি কোনো মেয়াদি স্কিমের ইউনিটপ্রতি গড় লেনদেনমূল্য স্কিমটির ক্রয়মূল্য বা বাজারে ঘোষিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে যেটি বেশি হয়, তার তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায়, তাহলে ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার্থে ফান্ডটির ট্রাস্টি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করতে পারবে। ইজিএমে উপস্থিত ভোটদাতা ইউনিটহোল্ডারদের তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট এবং বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে স্কিমটিকে বেমেয়াদিতে রূপান্তর অথবা অবসায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। এক্ষেত্রে শর্ত হলো ছয় মাস শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে। রেকর্ড ডেটের ২১ দিনের মধ্যে ইজিএম করতে হবে। এ বিধান বাস্তবায়নে বিএসইসির পক্ষ থেকে এ বছরের ৭ মে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।
এ নির্দেশনা জারির পর কয়েকজন ইউনিটহোল্ডার আপত্তি তুলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটকারীদের দাবি, ২০১৮ সালের সরকারি গেজেটের মাধ্যমে যেসব ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, সেগুলোর বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জোরপূর্বক রূপান্তরের সিদ্ধান্ত ইউনিটহোল্ডারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। এ প্রেক্ষাপটে গত ২১ মে হাইকোর্টে শুনানি শেষে বিএসইসির ৭ মের আদেশ এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর ৬২, ৬৩ ও ৬৪ নম্বর বিধির কার্যকারিতা নিয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে দুই মাসের জন্য মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর রূপান্তর বা অবলুপ্তি প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন আদালত।
আদালতের ওই আদেশের পর ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠানগুলো রূপান্তর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এর মধ্যে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) তাদের অধীন কয়েকটি ফান্ডের বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের প্রস্তুতি স্থগিত করে বিষয়টি বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির পক্ষ থেকে গত ১১ জুন ট্রাস্টিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার সুবিধা শুধু রিটকারী ইউনিটহোল্ডারদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এর বাইরে অন্য সব ইউনিটহোল্ডারের ক্ষেত্রে ৭ মের আদেশ বহাল থাকবে এবং রূপান্তর বা অবলুপ্তির প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।


