স্যামসাংয়ের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ১৯ গুণ
টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের পরিচালন মুনাফা চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ১৯ গুণ বেড়েছে।
এ মুনাফার পরিমাণ গত তিন বছরের সম্মিলিত আয়ের চেয়েও বেশি। তবে এত বড় সাফল্যের পরও শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে স্যামসাংয়ের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উচ্চ চাহিদা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের কারণে স্যামসাংয়ের বাজারমূল্য থেকে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার মুছে গেছে গতকাল।
রেকর্ড মুনাফা ও রাজস্ব আয়
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্টটির দেয়া হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানির সম্ভাব্য পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৫ হাজার ৮৪৪ কোটি ডলার)। গত বছরের এ সময়ে স্যামসাংয়ের মুনাফা ছিল ৪ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ওন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে বিপুল পরিমাণে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এলএসইজির পূর্বাভাস ছিল ৮৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওন, স্যামসাংয়ের প্রকৃত মুনাফা তাও ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে গত প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের রাজস্ব আয় গত বছরের তুলনায় ১২৯ শতাংশ বেড়ে ১৭১ ট্রিলিয়ন ওনে পৌঁছতে পারে।
শেয়ারবাজারে আকস্মিক পতন
এদিকে গতকাল শেয়ারবাজারে স্যামসাংয়ের শেয়ারদর ১০ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। দিনশেষে এ পতন দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশে। এছাড়া স্যামসাংয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদরও কমেছে ৬ শতাংশ। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক কসপি গতকাল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ পতন নিয়ে দিন শেষ করে।
বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, এ পতনের পেছনে রয়েছে বাজারে অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও এআই ডেটা সেন্টারের খরচ কমে যাওয়ার আশঙ্কা। এআই ডেটা সেন্টারের চাহিদার কারণে সম্প্রতি মেমোরি চিপের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যার সরাসরি সুবিধা পেয়েছে স্যামসাং। তবে এখন বাজারজুড়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিতে পারে। এমনটা হলে চিপের চাহিদাও কমে যাবে।
গত প্রান্তিকে মেমোরি চিপের দাম বাড়া অব্যাহত ছিল। এআই খাতের চাহিদা শুধু হাই-ব্যান্ডউইডথ মেমোরি (এইচবিএম) চিপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সাধারণ ড্র্যাম ও ন্যান্ড পণ্যের দামও বেড়েছে। সিটি রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ড্র্যামের গড় বিক্রয়মূল্য ৪৪ শতাংশ ও ন্যান্ডের মূল্য ৫৩ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বোনাসসংক্রান্ত কিছু বাড়তি খরচ না থাকলে স্যামসাংয়ের পরিচালন মুনাফা ১০০ ট্রিলিয়ন ওন পার হয়ে যেত।
স্মার্টফোন, পিসি ও করপোরেট সার্ভারে ব্যবহৃত সাধারণ মেমোরি চিপের সরবরাহ এখন কিছুটা কম। কারণ বর্তমানে হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) চিপের উৎপাদন অনেক দ্রুত বাড়ছে। এটিও সাধারণ চিপের দাম ধরে রাখতে সাহায্য করছে।


