স্বল্প বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থানের শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দেবে সরকার
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দেশের সব পর্যায়ে ও সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশের অধিক জনসংখ্যা ও সীমিত ভূমির বাস্তবতায় শ্রমঘন উৎপাদন শিল্পের বিকাশই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম কার্যকর পথ। তাই স্বল্প মূলধন বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে—এমন শিল্প খাতকে সরকার আগামীতে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে গতকাল বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় বিটাকের ‘আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের মাঝে সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শ্রেণীতে ৭২২ প্রশিক্ষণার্থীকে সনদ এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৬৪২ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দেশের সব পর্যায়ে ও সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই সরকারের অগ্রাধিকার—উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে উৎপাদন শিল্পের পরিধি যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বাড়বে। বিটাক সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো বলেন, ‘লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্প একসঙ্গে বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তাই আগামীতে সরকার যে শিল্প খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে, তার মধ্যে এ খাত অন্যতম।’
ভবিষ্যতে বিটাকের এ ধরনের কর্মসূচির পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি বড় সাফল্য হলো প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়া। প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জন করে সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন, এটাই এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সার্থকতা।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো জানান, আগামীতে এ প্রকল্পের আকার আরো বড় এবং বিটাককে আরো আধুনিক ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকসসহ আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, ‘প্রযুক্তি ও শিল্পের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে; সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারিগরি দক্ষতা কোনোভাবেই উচ্চ শিক্ষার চেয়ে কম মর্যাদার নয়। বিশ্বের আধুনিক শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।’
বিটাকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান, আরএফএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ, ম্যাটাডোর গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এইচএম আল মামুন প্রমুখ।


