এক সপ্তাহ পর হাজার কোটি টাকার নিচে নামল লেনদেন
দেশের পুঁজিবাজারে গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেনের নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।
এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেনও আগের কার্যদিবসের চেয়ে কমেছে। গত সপ্তাহে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকলেও গতকাল লেনদেন কমে ৯৬৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) এদিন সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পর থেকেই ডিএসইর সূচক নিম্নমুখী ছিল। দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৮৬১ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১৮০ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ইসলামী ব্যাংক, বিএসআরএম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ৯৬৫ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। এক্সচেঞ্জটিতে গত ২৭ জুলাই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৭২ কোটি টাকা। এরপর টানা গত ৭ কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি থাকলেও গতকাল তা কমে হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯টির, কমেছে ২৮৬টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৬ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৯ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
গতকাল বেশির ভাগ খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ, জীবন বীমা খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, সেবা খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে কাগজ খাতে ১ শতাংশ, বিবিধ খাতে দশমিক ৪ শতাংশ, পাট খাতে দশমিক ২ শতাংশ।
সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৫৯ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৫২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ১০৭ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৬১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২১৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ১৩৯টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির। গতকাল সিএসইতে প্রায় ৩১ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল প্রায় ৩০ কোটি টাকা।


