অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের একাংশের বিরুদ্ধে শেয়ার ব্যবসা, আর্থিক অনিয়ম ও সুশাসনের ঘাটতির অভিযোগ এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এক্সচেঞ্জটিতে অস্বাভাবিক উপায়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনা অনুসন্ধানে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ১০ আগস্ট বিএসইসির পরিদর্শন, অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশের মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়। উভয় কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ২১ ধারা ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর ১৭ রুল অনুযায়ী এ বিশেষ ক্ষমতাবলে তদন্ত কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের শেয়ার ব্যবসা ও সুশাসনের ঘাটতির বিষয়টি অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএসইসির পরিচালক এএসএম মাহমুদুল হাসানকে। তার সঙ্গে এ কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান ও সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান।
এ কমিটির তদন্তের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ডিএসইর ১৪১ নম্বর শেয়ারহোল্ডার সদস্যের আনা আর্থিক অনিয়ম, করপোরেট সুশাসনের অভাব ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধান। ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তা (যেমন সিওও, জিএম ও অন্যান্য) ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পুঁজিবাজারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শেয়ার ব্যবসার (ইনসাইডার ট্রেডিং) সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা। চুক্তিভিত্তিক পদ, উপদেষ্টা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগে ডিএসইর আরএসি, আরএডি ও এনআরসি কমিটি এবং এক্সচেঞ্জটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ভূমিকা মূল্যায়ন। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী ডিএসই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগের সত্যতা যাচাই।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর্মী ছাঁটাই এবং এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবিরকে। বিএসইসির উপপরিচালক মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহাকে এ কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
কমিটির তদন্তের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ডিএসইর কর্মীদের সাম্প্রতিক চাকরিচ্যুতির পেছনের প্রকৃত কারণ এবং এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বোর্ড কমিটির ভূমিকা কী ছিল তা বের করা। কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ডিএসইর নিজস্ব সার্ভিস রুলস ও প্রচলিত শ্রম আইন যথাযথ অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা। এ ছাঁটাইয়ের পেছনে মানবসম্পদ বিভাগের কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে কিনা এবং তা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ৭ ধারা (ফেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) লঙ্ঘন করে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া। প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা অন্য কোনো পরিচালকের অতিরিক্ত প্রভাব বা ভূমিকা ছিল কিনা সেটিও খতিয়ে দেখবে এ কমিটি।


