শুল্ক কমানোর পরও বেড়েছে খেজুরের দাম
রজমান মাস এলে দেশে খেজুরের চাহিদা বাড়ে। এতে প্রায় প্রতি বছরই বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখা যায়। এবার রমজানে খেজুরের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে শুল্ক কমানোর পর বাজারে খেজুরের দাম কমেনি, বরং বেড়েছে। গত কয়েকদিনে রাজধানীর বাজারগুলোতে মানভেদে কেজিতে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে খেজুরের দাম। আর চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে খেজুরের দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা দাম বাড়াননি। তারা নিজেরাও বেশি দামে কিনছেন। আর আমদানির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি প্রক্রিয়ায় থাকা অন্তত পাঁচটি জাহাজ দেশে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের টানা শ্রমিক ধর্মঘটের ফলে খালাস না হওয়ায় খেজুরের বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বেড়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভোক্তারা।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফআইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ৯০ হাজার টনের মতো খেজুরের চাহিদা রয়েছে। রমজান মাসে এর চাহিদা ও বিক্রি বেড়ে যায়। বার্ষিক চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশই বিক্রি হয় রমজান মাসে।
এদিকে আসন্ন রমজান মাসে খেজুরের দাম স্থিতিশীল রাখতে আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনবিআর। বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম সহনীয় রাখতে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান কাস্টমস ডিউটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সুবিধা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এছাড়া আগের বাজেটে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর-সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করে খেজুরসহ সব ফল আমদানির ওপর অগ্রিম আয়কর ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। অগ্রিম আয়কর ছাড়ের এ সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে বলে জানানো হয়।
গত শুক্রবার কারওয়ান বাজার, বাড্ডা ও নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, জাহিদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৬০-২৮০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এটি ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। দাবাস ও বরই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকা। এ দুই জাতের খেজুর গত সপ্তাহে মানভেদে ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাশরুর ও আলজেরিয়ান খেজুর ৬০০ টাকা, মাবরুম ১ হাজার ২০০ টাকা, আজওয়া (১) ১ হাজার ২০০ টাকা, আজওয়া (২) ১ হাজার, কালমি খেজুর ৮৫০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ টাকা, খুরমা খেজুর ৩৬০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ৩০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০, মেডজুল জাম্বু খেজুর ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের এক ফল বিক্রেতা বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই খেজুরের দাম বেশি। আমরাই বেশি দামে কিনছি। তাই কম দামে বিক্রি করতে পারছি না।’
উত্তর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘রমজানের এখানো প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে বাজারে খেজুরের দাম বেড়ে গেছে। সরকার ভ্যাট কমালেও আমরা কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। তাহলে ভ্যাট কমানোর কী দরকার? সরকার এখনই পদক্ষেপ না নিলে রোজার সময় দাম আরো বাড়বে।’
চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, কম দামের খেজুরের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। এসব খেজুর মূলত সৌদি আরব থেকে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে দুবাই থেকে আমদানি হওয়া খেজুরের দাম গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০-৫০ টাকা কমে পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৪৫০-৫০০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গুলিস্তান ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুর রাজ্জাক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারের শুল্ক কমানোর ফলে কম দামে পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। তবে আসন্ন নির্বাচন, বন্দরের অচলাবস্থা এবং শবে বরাতের আগে কয়েকদিনের বাড়তি চাহিদায় দাম কিছুটা বেড়েছে। আবার আমদানির ঋণপত্র খোলা খেজুর বহনকারী অন্তত পাঁচটি জাহাজ দেশে পৌঁছাতে বিলম্বের কারণে পাইকারি বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। পাইপলাইনে থাকা খেজুরগুলো খালাস হলে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে খেজুরের বাজার আবারো স্থিতিশীল হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’
শুধু খেজুর নয়, রমজানের আগে উত্তাপ বেড়েছে লেবুর বাজারেও। মাসখানেক আগেও রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ২০-৩০ টাকায় ছোট সাইজের এক ডজন লেবু পাওয়া যেত। এখন ৫০ টাকা হালির নিচে কোনো লেবুই মিলছে না। এক ডজন ছোট সাইজের লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা। প্রতি হালি ছোট লেবুর দাম ৫০-৬০ টাকা, সিলেট ও মৌলভীবাজারের বড় সাইজের লেবু কারওয়ান বাজারে শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা হালি। একই লেবু নতুন বাজারে বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকা হালিতে। এছাড়া কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে শসার দামও।


